বুধবার রাতে জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাধাগোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য সমিতির দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে বলে জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেল) মো. আদনান মুস্তাহিজ জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিমাগুলোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ হয়। এরপর মণ্ডপটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। প্রায় ৮৭ বছর ধরে ‘জামুর্কী আর্য্য’ সমিতির আয়োজনে ওই মন্দিরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। এবারও সেখানে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার রাতে কে বা কারা মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করে। বৃহস্পতিবার সকালে মণ্ডপ পরিষ্কার করতে গিয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পান। এ সময় দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ ও অসুরসহ মোট চারটি প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জামুর্কী আর্য্য সমিতির সভাপতি প্রকাশ বাকালী বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেল) মো. আদনান মুস্তাফিজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদ রেজাসহ পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা। পরে প্রতিমাগুলোর নিরাপত্তায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, “মন্দিরটি পরিদর্শন শেষে নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।”
সহকারী পুলিশ সুপার মো. আদনান মুস্তাফিজ বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

No comments:
Post a Comment