ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পৃথক দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মন্দির থেকে চুরি যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী, নগদ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়ক এলাকায় মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের তালা ভেঙে প্রতিমার গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের প্রণামীর টাকা নিয়ে যায়। এর কয়েক দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে পূজার সামগ্রী, তিনটি ধাতব ঘট এবং ঘটের সঙ্গে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাগুলোর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় চুরি যাওয়া মালামাল, নগদ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে দ্রুততম সময়ে চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় ফটিকছড়ির সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর ও ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, ঘটনার পর সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর দেশের বাইরে অবস্থান করেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খানসহ পুলিশের সদস্যরা দ্রুত অভিযান পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।
সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় উপাসনালয়ে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
এ ঘটনায় বৃহত্তর ফটিকছড়ির সর্বস্তরের সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে ফটিকছড়িতে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার কথা জানিয়েছিলেন সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।

No comments:
Post a Comment