বিজয় সরকার, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চিফ - সনাতন টিভি
ধর্মপ্রাণ সনাতনী সমাজের হৃদয়ে আঘাত হানলো আরেকটি দুঃখজনক ঘটনা। হবিগঞ্জ শহরের কালীগাছতলা এলাকার প্রাচীন শ্রীশ্রী কালী মন্দিরে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে, ঝড়-বৃষ্টির অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত এই চুরি মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভক্তদের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মন্দির সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ২টার দিকে একদল সংঘবদ্ধ চোর মন্দিরের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরিকল্পিতভাবে তারা প্রথমে সিসিটিভির তার কেটে দেয়, যাতে তাদের কার্যক্রম ধরা না পড়ে। এরপর মূল মন্দিরের গ্রিল ভেঙে প্রবেশ করে তারা কালী প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণ ও রূপার অলংকার—মাথার মুকুট, হাতের তাজ, পায়ের নুপুর, গলার সীতাহার ও চেইন, কানের দুল—নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা মহাদেবের পাথর এবং দানবাক্সে থাকা অর্থও লুট করে নেয়।
রোববার সকালে স্থানীয় ভক্তরা মন্দিরে এসে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেখতে পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মন্দির কমিটির সভাপতি দিলীপ দাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগেও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এবারের ঘটনা আমাদেরকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। এটি শুধু চুরি নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত।” তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার সাথে স্থানীয় কোনো চোরচক্র জড়িত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, খুব দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভক্তদের দাবি—মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে ধর্মীয় স্থাপনার পবিত্রতা রক্ষা করা হোক।
ধর্মীয় স্থানে এমন দুঃসাহসিক অপরাধ শুধু সম্পদের ক্ষতি নয়, এটি আঘাত করে কোটি ভক্তের বিশ্বাস ও অনুভূতিতে।

No comments:
Post a Comment