জিমেই যত বিপত্তি। হিন্দু মেয়েরা ধর্মান্তরিত হয়ে যাচ্ছে পুরুষ জিম ট্রেনারদের হাতে। (Yogi Adityanath)প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে হিন্দু মেয়েদের ধর্ম পরিবর্তন আর এই আবহেই যোগী রাজ্যে নয়া নিয়ম চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। যোগী ঘোষণা করেছেন রাজ্যে সমস্ত জিমে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেবেন মহিলারাই। মির্জাপুরে সম্প্রতি যে কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে, তাতে দেখা গেছে কীভাবে কিছু জিমকে ঘিরে ধর্মান্তরণের অভিযোগ, ব্ল্যাকমেল, যৌন নির্যাতন সব মিলিয়ে একটা অন্ধকার চক্র চলছিল।
দুই মহিলা অভিযোগ করেছেন যে, জিমের ট্রেনাররা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে অশ্লীল ভিডিও তুলে রেখে টাকা আদায় করেছে, ঋণের নামে ফাঁসিয়েছে এবং ধর্ম পরিবর্তনের চাপ দিয়েছে। এরপর পুলিশ কয়েকটা জিম সিল করে দিয়েছে, পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাগুলোর পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এখন থেকে রাজ্যের সব জিমে মহিলাদের জন্য মহিলা ট্রেনার নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে।
যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট করে বলেছেন, মহিলাদের নিরাপত্তায় কোনো আপোষ করা হবে না। জিমে মহিলা সদস্যদের সুবিধার জন্য মহিলা ট্রেনার থাকতে হবে। যে সব জিম এই নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশ এসেছে মির্জাপুরের ঘটনার পর, যেখানে দেখা গেছে পুরুষ ট্রেনাররা কীভাবে মহিলাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের শোষণ করেছে এবং ধর্মান্তরণের চাপ দিয়েছে।
যোগী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট অবৈধ ধর্মান্তরণ, লাভ জিহাদ বা এ ধরনের কোনো অপরাধকে ছাড় দেওয়া হবে না।এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রস্তাবও। আগে থেকেই তারা বলে আসছিল যে, জিম, যোগা সেন্টার, সুইমিং পুল এসব জায়গায় মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য মহিলা ট্রেনার রাখা দরকার।
এমনকি পুরুষ ট্রেনার থাকলেও তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। মির্জাপুরের ঘটনায় দেখা গেছে, জিমগুলোকে ফ্রন্ট বানিয়ে অপরাধ চালানো হচ্ছিল। ট্রেনাররা মহিলাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে, পরে ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ দিয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রে অনেকে জড়িত ছিল এবং এটা শুধু মির্জাপুরেই সীমাবদ্ধ নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যোগী আদিত্যনাথের সরকার মহিলা নিরাপত্তাকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছে। তিনি বারবার বলেছেন, রাজ্যে মেয়েদের হয়রানি করলে ‘যমরাজ’ অপেক্ষা করছে। এই নতুন নিয়মও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। জিম মালিকদের এখন মহিলা ট্রেনার নিয়োগ করতে হবে, যাতে মহিলা সদস্যরা নিরাপদে অনুশীলন করতে পারেন।
অনেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। মহিলারা বলছেন, এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং জিমে যাওয়ার ইচ্ছে আরও বাড়বে। কিন্তু কিছু জিম মালিক মনে করছেন, এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে, বিশেষ করে ছোট জিমগুলোতে। তবু সরকারের অবস্থান কঠোর নিয়ম মানতে হবে, না হলে জিম বন্ধ হয়ে যাবে।

No comments:
Post a Comment