নিজস্ব প্রতিবেদক, দীঘিনালা
কার্তিকের হিমেল হাওয়ায় কাশফুলের দোলা। আকাশে শরতের মেঘ, মনে ভক্তির বান।
আজ মহা সপ্তমী। দীঘিনালার বোয়ালখালী শ্রী শ্রী নারায়ন মন্দির প্রাঙ্গণে ভোর থেকেই শঙ্খ-উলুধ্বনি আর ঢাকের তালে তালে জেগে উঠলো দেবীপক্ষ।
প্রতিমার চোখে যেন করুণার ছায়া, দশ হাতে দশ দিশার আশীর্বাদ। পুরো মণ্ডপ জুড়ে ধূপ-ধুনো-চন্দনের গন্ধ। ভক্তের লাইনে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ-শিশু, সবার কপালে সিঁদুরের টিপ, হাতে অঞ্জলির ফুল।
ভোর ৬টায় ঘটস্থাপন ও সপ্তমী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। নবপত্রিকা স্নান, কলাবউ স্নান শেষে দেবীর চক্ষুদান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত *শ্রী সঞ্জয় চক্রবর্তী*। তাঁর মন্ত্রোচ্চারণে কেঁপে ওঠে মন্দিরের বাতাস। অঞ্জলি দেওয়ার সময় ছোট ছোট শিশুদের হাতেও উঠে আসে বেলপাতা আর জবার মালা।
এবারের পূজা ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের *সভাপতি শ্রী নিমাই চন্দ্র নাথ* বলেন,
_"বোয়ালখালী শ্রী শ্রী নারায়ন মন্দির আমাদের গর্ব। সপ্তমীর এই পবিত্র দিনে আমরা চাই সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে মিলে মায়ের আরাধনা করুক। প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছি। মায়ের কৃপায় যেন সবার ঘরে শান্তি আসে।"_
পরিষদের *সাধারণ সম্পাদক শ্রী রিটন দে* বলেন,
_"সপ্তমী মানেই আনন্দের শুরু। আজ থেকে তিনদিন ব্যাপী পূজার মূল আকর্ষণ। ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যায় ভজন ও কীর্তনের আয়োজন আছে। আমি সকল ভক্তবৃন্দকে সুশৃঙ্খলভাবে পূজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই। জয় মা দুর্গা।"_
শিশুদের হাতে বেলুন, বয়স্কদের মুখে প্রার্থনা। বোয়ালখালীর এই মন্দির যেন আজ এক টুকরো স্বর্গ।
আগামীকাল মহা অষ্টমী ও সন্ধিপূজা। তারপর নবমী পেরিয়ে দশমীতে হবে মায়ের বিসর্জন।

No comments:
Post a Comment