চাঁদপুরের কচুয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্ধুত্বের কোনো ধর্ম নেই, নেই জাত-পাতের বিভেদ। সুখে-দুঃখে যে বন্ধুত্ব মানুষকে একসঙ্গে পথ চলতে শেখায়, মৃত্যুর পরও সেই সম্পর্কের আবেগ অটুট থাকতে পারে। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা।
কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রদীপ সরকার তাঁর মুসলিম বন্ধু দহুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বাবুলের জানাজায় উপস্থিত হয়ে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।
বন্ধুর মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না প্রদীপ সরকার। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জলে বন্ধুর জানাজার কাতারে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর অশ্রুসিক্ত চোখ ও নির্বাক উপস্থিতি উপস্থিত অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
জানা যায়, কামাল হোসেন বাবুল (৫৫) ছিলেন সহজ-সরল ও স্নেহশীল মানুষ। বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাঁর জানাজায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, বন্ধুবান্ধব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তবে সবার নজর কাড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি।
জীবনের দীর্ঘ সময়ে প্রদীপ সরকার ও কামাল হোসেন বাবুল একসঙ্গে চলেছেন, ভাগাভাগি করেছেন হাসি-আনন্দ ও সুখ-দুঃখের নানা স্মৃতি। প্রিয় বন্ধুকে শেষবারের মতো দেখতে এসে সেই স্মৃতিগুলোই যেন বারবার মনে পড়ছিল প্রদীপের।
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা ভুলে বন্ধুর শেষ বিদায়ে উপস্থিত হওয়া প্রদীপ সরকারের এই আবেগঘন মুহূর্ত স্থানীয়দের কাছে হয়ে উঠেছে মানবিকতা, বন্ধুত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।
বন্ধুর মৃত্যুতে প্রদীপ সরকারের অশ্রুসিক্ত বিদায় যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেক সময় ধর্মীয় পরিচয়ের সীমানাকেও ছাড়িয়ে যায়।

No comments:
Post a Comment