/> স্বামীর কেনা জমিতে স্ত্রীর সৎকারে বাধার অভিযোগ, ১৯ ঘণ্টা পর খাস জমিতে শেষকৃত্য - Sanatan Tv
Vedic Video!Subscribe To Get Latest Vedic TipsClick Here

সাম্প্রতিক খবর

Sanatan Tv

সত্যের সন্ধানে অনুসন্ধান

Post Top Ad

স্বামীর কেনা জমিতে স্ত্রীর সৎকারে বাধার অভিযোগ, ১৯ ঘণ্টা পর খাস জমিতে শেষকৃত্য

 


গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর কেনা জমিতে স্ত্রীর মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়া হয়। পরে প্রায় ১৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাড়ির পাশের একটি খাস জমিতে মেনোকা বর্মণ (৬০) নামের ওই নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন তাঁর ছেলে ও স্বজনরা।

ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। মৃত মেনোকা বর্মণ ওই গ্রামের শ্রী গোপাল চন্দ্র বর্মণের স্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর স্বামীর কেনা বলে দাবি করা জমিতে মেনোকার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হলে স্থানীয় এক ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।



জমি কেনা নিয়ে বিরোধ

মেনোকার ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণের দাবি, কয়েক বছর আগে তাঁর বাবা স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় এক শতাংশ জমি কেনেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটির মূল্য পরিশোধ করা হলেও মিউটেশন বা খারিজ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের দাবি, জমি কেনার সময় জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল এবং জমির মূল্যও পরিশোধ করা হয়। তবে পরবর্তীতে বিক্রেতা জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

এই জমিতেই মেনোকার শেষকৃত্য করতে গেলে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

‘মরদেহ সৎকারেও বাধা দেওয়া হয়েছে’

সুনীল চন্দ্র বর্মণের অভিযোগ, তাঁর মায়ের মরদেহ সৎকারের জন্য ওই জমিতে জায়গা প্রস্তুত করতে গেলে সফির উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা বাধা দেন।

পরিবারের আরেক সদস্যের দাবি, তাঁদের কাছে সৎকারের জন্য বিকল্প কোনো নিজস্ব জায়গা নেই। ফলে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মায়ের শেষকৃত্য নিয়েও তাঁদের বিপাকে পড়তে হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা আদিবাসী হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অপর পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৯ ঘণ্টা পর খাস জমিতে শেষকৃত্য

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রায় ১৯ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

পরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি খাস জমিতে মেনোকা বর্মণের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন তাঁর ছেলে ও স্বজনরা।

মৃতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

জমির মালিকানা নিয়ে যা জানা গেছে

পরিবারের দাবি, জমিটি তাঁদের বাবা কয়েক বছর আগে স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে কিনেছিলেন। কিন্তু মিউটেশন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি।

অন্যদিকে, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর বিক্রেতা ওই জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, বিক্রয় চুক্তির বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

একজন নারীর মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পাশাপাশি মরদেহ সৎকারের মতো মানবিক বিষয়েও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

তবে এ ঘটনায় কার বক্তব্য সঠিক, জমিটি আদৌ বৈধভাবে কেনা হয়েছিল কি না এবং সৎকারে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা জরুরি।

প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত জমির বিক্রেতা ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই পরিবারের অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad