কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে ঘিরে দাবি উঠেছে, ঝুমুর আক্তার (২২) নামের ওই তরুণী এক হিন্দু তরুণকে বিয়ে করেছেন। তবে বিয়ের তারিখ, বরের পরিচয় ও ঠিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝুমুর আক্তার উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের বিরুলী গ্রামের মৃত সৈকত আলীর মেয়ে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিতে যান। সেখান থেকে নিয়মিত মায়ের ও ভাইদের জন্য অর্থ পাঠাতেন বলেও জানিয়েছে পরিবার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, চট্টগ্রামে ঝুমুরের বিয়ে হয়েছে। বরের পরিচয় সম্পর্কে পরিবারের কাছে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিবারের দাবি, প্রতারণা বা চাপের আশঙ্কা
ঝুমুরের পরিবারের দাবি, তিনি কখনো কোনো তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা তাঁদের জানাননি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথাবার্তাও হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেই বিয়ে আর এগোয়নি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝুমুরের বিয়ের ছবি দেখতে পান তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, তিনি কোনো ধরনের প্রতারণা, চাপ কিংবা প্ররোচনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
তবে এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে বিয়েটি স্বেচ্ছায় হয়েছে, নাকি কোনো চাপ বা প্রতারণার ঘটনা ছিল—এ বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা
খবর পাওয়ার পর ঝুমুরের মা শাহেনা বেগম মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শাহেনা বেগমের দাবি, মেয়ের সঙ্গে আগে কোনো সমস্যা হলে সে তাঁকে জানাত। কিন্তু এবার বিয়ের বিষয়টি পরিবারের কাছে আগে থেকে জানানো হয়নি।
মেয়ের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিকে ঘিরে আলোচনা
এদিকে বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিরুলী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে নানা ধরনের মন্তব্য না করে আগে প্রকৃত ঘটনা জানা প্রয়োজন।
বিশেষ করে তরুণী নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন কি না, তাঁর ওপর কোনো ধরনের চাপ ছিল কি না এবং বিয়ের সঙ্গে প্রতারণার কোনো ঘটনা জড়িত কি না—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
যা এখনো নিশ্চিত নয়
প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত ঝুমুরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment