বিএনপির কাছে হিন্দুদের প্রত্যাশা অনেক, গুপ্তহত্যা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর সপরিবারে হত্যাসহ সারাদেশ খুন, হিন্দুদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে হামলা ও জমি জবর দখলের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটি ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্র শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এড. চন্দন তালুকদার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপির কাছে হিন্দুদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় খুন, হিন্দুদের উপর হামলা, জমি জবর দখলের ঘটনা হিন্দুদের হতাশ করছে। এছাড়া হিন্দুদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে চাকরিসহ বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানি ও চাকরিচ্যুত করছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হলেও সরকার, প্রশাসন ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা সময় সুযোগ পেলে এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালগু সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পরে। যারা রংপুরসহ সাড়াদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হত্যা,ধর্ষণ, নির্যাতন, মঠ-মন্দির, দোকানপাট দখল করছে তাদের কোন ধর্ম পরিচয় থাকতে পারে না। তাদেরকে অনতিবিলম্বে তদন্তপূর্বক বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী পরিবার হত্যায় প্রকৃত দোষীদের তদন্তপূর্বক গ্রেফতার ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানানো হয়। সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালগু পরিবারকে পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করতে হবে। বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে রেইনবো নেশন গড়তে চান। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা একশ্রেণীর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পদে পদে বাঁধা সৃষ্টি করছে এবং দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। দেশ যদি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অধীনে চলে যায় তবে সকল প্রগতিশীল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা করা।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. নিখিল নাথের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর পূজা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি লায়ন তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, কার্যকরী সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, সহ সভাপতি চন্দন দাশ, বিদ্যালাল শীল, বীর মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দ পাল অরুন, বাগীশিক কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষ্মী দেবী, গীমাস প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপিকা কৃষ্ণা দাশ, মাস্টার অজিত কুমার শীল, শ্রী সুজয় কুমার দাশ,লায়ন রবি শংকর আচার্য্য, প্রকৌশলী সুভাষ গুহ, সুভাষ চন্দ্র দাশ, এড. সলিল কান্তি গুহ, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, শ্রী হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, প্রকৌশলী সঞ্জিত বৈদ্য, শ্রী রতন আচার্য্য, শ্রী কানু রাম দে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলা শাখার সদস্য সচিব উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস,রানা মহাজন, বাবলু দেবনাথ, ডাঃ বিজন কান্তি নাথ,শ্যামল কান্তি দে, সোমা রানী দাশ,
শ্রীমতি অশ্রু চৌধুরী, মৌসুমী চৌধুরী, রূপনা চৌধুরী রুপা, লহ্মী দত্ত,বিপ্লব সেন,সুকান্ত মহাজন টুটুল, অধ্যাপক অঞ্জন দত্ত, এড. তপন দাশ, স্ট্যালিন দে, এড. রক্তিম বিশ্বাস,রিপন রায়,তমাল শর্মা চৌধুরী, রাজন দাশ,লিটন শীল,শিবু চৌধুরী, দীপক দাশ, দেবাশীষ চৌধুরী,এনটন দে, প্রদীপ দে, সমীরন দাশ,রাজু দাশ বাবু, সুকান্ত মজুমদার, প্রাইম ঘোষ, রাজীব নন্দী, প্রিয়তোষ বল প্রমূখ।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে চেরাগী হয়ে ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।


No comments:
Post a Comment