যীশু সেন :
"তালবিন্দু একাডেমি" এর ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- তবলা মানুষের সৃজনশীলতাকে জাগ্রত করে। একজন শিল্পী যখন তবলা বাজান, তখন তিনি শুধু তাল রক্ষা করেন না, বরং নিজের মনের ভাব প্রকাশ করেন। তার আঙুলের প্রতিটি আঘাত, প্রতিটি বিরতি—সবকিছুই এক একটি গল্প বলে। এই গল্প কখনো প্রফুল্ল, কখনো গভীর, আবার কখনো ধ্যানমগ্ন। শ্রোতারা সেই গল্প শুনে নিজের অনুভূতির সঙ্গে মিল খুঁজে পান, যা সংগীতকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
তবলা কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি মানুষের জীবন, অনুভূতি ও সংস্কৃতির এক চিরন্তন প্রতীক। তবলা মানুষের হৃদয়ের স্পন্দনের মতো—লয়, তাল আর আবেগের এক অনন্য ভাষা। এটি শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং অনুভূতি প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। মানুষের হাসি, কান্না, আনন্দ কিংবা বেদনা—সবকিছুই যেন তবলারই বোলের মধ্যে জীবন্ত হয়ে ওঠে। গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চর্চিত এই শিল্প মানুষের আত্মিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবলার সুরে জাগে মানুষের সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত।
তবলার প্রতিটি ধ্বনি মানুষের মনের গভীরে ছুঁয়ে যায় এবং তাকে সুর ও ছন্দের এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। তাই বলা যায়, তবলা মানুষের আত্মার সঙ্গী, যা সময়ের স্রোতে থেকেও চিরকাল প্রাণবন্ত। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সাধনা ও ঐতিহ্যের ধারক। নতুন প্রজন্মের মাঝে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা ও প্রসার ঘটাতে তালবিন্দু একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ওস্তাদ জাকির হোসেন ও পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুণী শিল্পীদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে তরুণ শিল্পীরা অনুপ্রেরণা লাভ করবে এবং তবলার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। তালবিন্দু একাডেমির এই আয়োজন ছিল সার্থক ও প্রশংসনীয়। একাডেমির প্রথম বর্ষপূর্তিতে এমন একটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজন শুধু প্রতিষ্ঠানের সাফল্যই তুলে ধরে না, বরং চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নতুন উদ্দীপনা যোগায়।
গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫:৩০ মিনিটে থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে "তালবিন্দু একাডেমি" এর ১ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওস্তাদ জাকির হোসেন ও পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।
তালবিন্দু একাডেমির সভাপতি রূপম চক্রবর্ত্তী এর সভাপতিত্বে উদ্বোধক ছিলেন
শিল্পপতি ও সংগঠক লায়ন আর. কে. দাশ রুপু। প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পপতি ও সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ। সংবর্ধেয় অতিথি ছিলেন তবলা শিল্পী ও তবলাগুরু চন্দন ধর।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তাবিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী,
টিভি, বেতার শিল্পী ও বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের অধ্যক্ষ শিল্পী রিষু তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তালবিন্দু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তবলাশিল্পী অমর্ত্য চক্রবর্ত্তী। শিল্পী পার্থ প্রতীম মহাজন ও ইতি সর্ববিদ্যা এর দ্বৈত সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন তালবিন্দু বর্ষপূর্তি উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অভিজিৎ চৌধুরী, সদস্য সচিব রঞ্জন কুমার সেন।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তালবিন্দু একাডেমির শিক্ষার্থীরা, যারা বৃন্দ তবলা লহড়া পরিবেশন করেন।
পরিচালনায় ছিলেন তবলাশিল্পী অমর্ত্য চক্রবর্ত্তী। এছাড়াও উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিটন দাশ (কণ্ঠ), শিল্পী মিটন বিশ্বাস (মোহনবীণা), এবং তবলায় সঙ্গত করেন শিল্পী সজীব বিশ্বাস। হারমোনিয়ামে সঙ্গত করেন শিল্পী দীপ্ত দত্ত ও শিল্পী নিলয় দত্ত। সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ডান্স একাডেমির নৃত্য পরিবেশন করেন চয়ন, আয়েশা, রাইমা, তিথি, ইশিকা, সৃজীতা, অবনিকা, দিপান্বিতা, শর্মিলা, সৌম্য, অদি, সর্বানি, সমর্পিতা, সভ্যতা, মিথিলা, প্রাচী, রূপসা, ইয়ানা, স্নেহা, অর্পিতা, প্রেয়সী, মালিহা, তাবাসুম, অতন্দ্রিতা, অর্চিশা। পরিচালনায়
নৃত্যশিল্পী হিল্লোল দাশ সুমন। নাট্য শাস্ত্রম এর নৃত্য পরিবেশনায় করেন কাব্য, রাইমা দাশ, রাত্রি ধর, অর্চিতা দাশ, দিয়া দাশ, তুলতুল চৌধুরী, অনুরাধা দাশ। পরিচালনায় নৃত্যশিল্পী হৃদিতা দাশ।
সমগ্র সংগীতানুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন তবলাশিল্পী অমর্ত্য চক্রবর্ত্তী।
তালবিন্দু একাডেমির শিক্ষার্থীরা তবলাবাদনে অংশ গ্রহণ করেন
চিন্ময় চক্রবর্তী, প্রণয় চক্রবর্তী, আদিত্য দাশ, আদিত্য দত্ত, শ্রীমন্ত দে, সুমিত্র দাশ,
স্বস্তি দীপন ধর, জয় রায়, জয়তু মল্লিক,
তীর্থ নাথ, পিয়াস দে, উৎস দেবনাথ, রাজেশ দে, ঋষভ চক্রবর্তী, সপ্তক ঘোষ,
সিদ্ধার্থ চৌধুরী, সৌনক দাশ, শ্রেয়ান ঘোষ, শ্রেয়াণ সৌম্য দাশ, শুভ্র ভট্টাচার্য,
অর্জুন চক্রবর্ত্তী, অভিষিক্তা চৌধুরী,
দেবরাজ সেন, অভিশান চৌধুরী, জয়রাজ সরকার প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment