বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় রাজমিস্ত্রি যুবকসহ তার বাবা-মা গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় নন্দীগ্রাম পৌরসভার মাজগ্রাম (পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় মাজগ্রাম এলাকার শ্রী স্বপনের ছেলে শ্রী দুর্জয় (২৫) কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে স্থানীয় পৌর যুবদল নেতা আব্দুর রউফ রুবেল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিয়ামুল হক রাব্বির নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল তাকে গালিগালাজ ও মারধর করে। এমনকি তার গলায় হাসুয়া ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দুর্জয়ের বাবা শ্রী স্বপন ও মা শ্রীমতি চায়না রানী সরকার এর প্রতিবাদ করতে গেলে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে অভিযোগ জানাতে বের হলে অভিযুক্তরা আবারও তাদের ওপর চড়াও হয়। সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক গালিগালাজ করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা শ্রী স্বপনের চোখে ও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি; সেখানে ঢুকেও তাদের বেধড়ক পেটানো হয়।
আহত শ্রী স্বপন বলেন, "আমরা সংখ্যালঘু বলে কি এই দেশে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই? রুবেল ও রাব্বির নেতৃত্বে তারা আমাদের ওপর যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে আমরা এখন বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এদিকে রাজনৈতিক নেতার নাম আসার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment