সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী মদনগোপাল জিউ আখড়া প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে ১২ ফুট উচ্চতার হনুমান মূর্তি। আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই হনুমান মূর্তিই সবচেয়ে বড়।
বুধবার (১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে হনুমান পূজা ও মহোৎসব।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঘিরে ইতোমধ্যেই সিলেটের সনাতনীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ রামায়ণে হনুমান এক অসাধারণ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। তিনি ছিলেন ভগবান শ্রী রামের পরম ভক্ত এবং শক্তি, বুদ্ধি ও সাহসের এক অনন্য প্রতীক। সীতাকে উদ্ধারের জন্য তার লঙ্কা যাত্রা, অগ্নিসংযোগ এবং লক্ষ্মণের প্রাণরক্ষার্থে গন্ধমাদন পর্বত বহন, এসব ঘটনা তাকে অমর করে রেখেছে ভক্তদের হৃদয়ে।
তার জীবনের মূল শিক্ষা হলো নিঃস্বার্থ ভক্তি, আত্মত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকা। যা আজও সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক।
তার রয়েছেন অসংখ্য ভক্ত। বাঙালি সনাতন সংস্কৃতিতেও দেবতা রূপে পূজিত হন হনুমান। হনুমান পূজা মানুষের জীবনে সাহস, সুরক্ষা এবং মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
গ্রামীণ বাংলার মন্দির, কীর্তন, যাত্রাপালা এবং রামায়ণভিত্তিক পালাগানে হনুমান চরিত্রটি শক্তি ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।
শ্রী শ্রী মদনগোপাল জিউ আখড়া প্রাঙ্গণে হনুমান মূর্তিটি তৈরি করছেন খ্যাতনামা প্রতিমাশিল্পী দুলাল পাল।
১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে পূজা ও মহোৎসব।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয়েছে উৎসবের কার্যক্রম।
বুধবার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
মূল পূজার দিন সকাল ৯টায় মঙ্গলঘট স্থাপন ও পূজারম্ভ হবে।
সকাল ১০টায় অঞ্জলি প্রদান, দিনব্যাপী ভক্তিমূলক সংগীত, গীতা পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দুপুর দেড়টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় হবে ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান।
মন্দির কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই বিশাল আকৃতির হনুমান মূর্তিটি কেবল আকারেই নয়, বরং শিল্পের সূক্ষ্মতা, নান্দনিকতা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের দিক থেকেও অনন্য হয়ে উঠছে।
প্রতিমার গঠনশৈলীতে ফুটে উঠছে হনুমান জি’র বলিষ্ঠতা, ভক্তি এবং আত্মনিবেদনের প্রতীকী রূপ। তার হাতে গদা, দৃঢ় দেহভঙ্গি এবং ভক্তিপূর্ণ অভিব্যক্তি- সব মিলিয়ে এটি ভক্তদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।
আয়োজক কমিটির সদস্য অপূর্ব কুমার দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়- এটি একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ। সব মিলিয়ে, ভক্তি, ঐতিহ্য, রামায়ণের চিরন্তন শিক্ষা এবং বাংলার সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়ে সিলেটে গড়ে উঠছে এক নতুন ইতিহাস। এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রতিমা নির্মাণ নয়- এটি বিশ্বাস, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক গৌরবের এক জীবন্ত প্রতীক, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২৫ হাজারের অধিক ভক্তের সমাগম ঘটবে পূজায়।

No comments:
Post a Comment