লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি দিঘিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতি দিঘির পাড়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মেলার আয়োজন উপলক্ষে আগামী ২৭ মার্চ ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি মেলা সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সিন্দুরমতি দিঘিকে স্থানীয় পর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বরং জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দিঘির সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নিতে প্রশাসন সক্রিয়। দক্ষ নকশাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি দর্শনীয় স্থান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ঐতিহাসিক দিঘিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। অতীতে অবহেলার কারণে এর গুরুত্ব কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছিল। যদিও দিঘিকে কেন্দ্র করে আয়োজনকৃত মেলায় পূর্বে কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল, প্রশাসন সেগুলো প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
মন্ত্রী তরুণ সমাজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উপর জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে সরকার নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় কমে আসবে এবং তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
এছাড়া, সিন্দুরমতি দিঘি লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের ভূমিতে, কুড়িগ্রামের রাজাহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাতে অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার, দুই জেলার পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

No comments:
Post a Comment