মতুয়া মহাপুরুষ পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর-এর ২১৫তম আবির্ভাবোৎসব উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহাসিক ওড়াকান্দিতে শুরু হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বারুণী স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী বারুণী মেলা। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে লাখো মতুয়া ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি এলাকা।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া পবিত্র বারুণী স্নান চলবে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে পাপমুক্তি ও পুণ্যলাভের আশায় ভক্তরা ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গণে অবস্থিত কামনা সাগর ও শান্তি সাগরে স্নান করে দেশ ও মানবজাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করবেন।
স্নানোৎসবে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে সমবেত হয়েছেন। আয়োজকদের ধারণা, এবারের উৎসবে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি ভক্ত অংশ নেবেন।বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে ঠাকুরবাড়ির পাশেই বসেছে তিন দিনব্যাপী বিশাল বারুণী মেলা। মেলায় কাঠ, বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র, মাটির খেলনা, তালের পাখা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন শত শত ব্যবসায়ী।
ভক্তদের থাকা-খাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে মতুয়া সংঘ। বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী শিবির ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মতুয়া সংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা ভক্তদের সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন।
উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ঠাকুরবাড়ি এলাকায় বসানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ চৌকি ও অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য শিফটিং পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে এ বছরের বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

No comments:
Post a Comment