বিজয় সরকার,সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চিফ - সনাতন টিভি
ভক্তি, আবেগ ও আধ্যাত্মিক মহিমায় উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে মৌলভীবাজার। আগামী ২৭ মার্চ (শুক্রবার) শ্রী শ্রী রাম নবমী উপলক্ষে জেলায় আয়োজন করা হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই মহৎ আয়োজন করছেন মৌলভীবাজার রাম নবমী উদযাপন পরিষদ।
চিত্রাঙ্গন,সংগীতময় ভাগবত ও রাম কথা আলোচনা, গীতা পাঠ,শ্রী রাম সম্পর্কে উপস্থিত বক্তব্য, চিত্রনাট্য
প্রতিযোগিতা, আলোচনা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে এবারের মহোৎসব।
এবারের বিশেষ আকর্ষণ: রামায়ণের ‘শবরী’ থিম
এবারের রাম নবমীর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে রামায়ণের ভক্তিময় চরিত্র শবরী।
রামায়ণ অনুসারে, বনবাসকালে ভগবান শ্রীরামের দর্শনের আশায় প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকতেন ভক্ত শবরী। তিনি অরণ্য থেকে ফল সংগ্রহ করে নিজে স্বাদ পরীক্ষা করে সবচেয়ে মিষ্টি ফলটি রামের জন্য সংরক্ষণ করতেন। শ্রীরাম তাঁর সেই অমলিন ভক্তিকে সস্নেহে গ্রহণ করেন—যা প্রমাণ করে, ভক্তির কাছে জাতি-বর্ণ-অবস্থান কোনো বাধা নয়।
এবারের মণ্ডপে নির্মিত হচ্ছে —শবরীর অরণ্যকুটির
রামের আগমনের আবেগঘন দৃশ্য বনবাসের পরিবেশের শিল্পসম্মত প্রতিরূপ
আলোকসজ্জা ও ভক্তিমূলক আবহ
আয়োজকরা জানান“শবরীর ভক্তি আমাদের শেখায়—সত্য, ধৈর্য ও নিষ্ঠাই ঈশ্বরপ্রাপ্তির পথ।”
অনুষ্ঠান সূচী-১৯ চৈত্র (২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার)
সকাল ১০:৩০ – চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা,বিকাল ৪:০০ – প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান
২০ চৈত্র (২৭ মার্চ, শুক্রবার) — মূল রাম নবমী
ভোর ৫:০০ – মঙ্গলধ্বনি ও মঙ্গল আরতি,সকাল ৯:০০ – শ্রী রামচন্দ্রের পূজার্চনা,সকাল ১০:৩০ – বিশেষ যজ্ঞ ও মহাযজ্ঞ,দুপুর ১২:০০ – মধ্যাহ্ন তিথি পূজা,দুপুর ২:৩০ – ধর্মীয় আলোচনা,বিকাল ৪:০০ – মহাপ্রসাদ বিতরণ,সন্ধ্যা – আরতি ও ভজন কীর্তন
২১ চৈত্র (২৮ মার্চ, শনিবার)বিকাল ২:০০ – প্রতিমা বিসর্জন
পৃথকভাবে পালিত হবে হনুমান জন্মোৎসব
রাম নবমীর ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয়েছে হনুমান জন্মজয়ন্তী মহোৎসবও।
সকাল: পূজার্চনা ও পাঠ,দুপুর: হনুমান চালিশা পাঠ
সন্ধ্যা: আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,পরদিন: প্রতিমা বিসর্জন
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমন্বয়ে গঠিত মৌলভীবাজার রাম নবমী উদযাপন পরিষদ প্রতি বছরই বৃহৎ পরিসরে রাম নবমী উদযাপন করে থাকে। এবছরও শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে থাকবে সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাম নবমী কেবল উৎসব নয়—এটি ন্যায়, আদর্শ, সত্যবাদিতা ও ধর্মনিষ্ঠ জীবনের প্রতীক।
রামরাজ্য মানে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা।
শবরীর ভক্তি মানে সমতা ও আন্তরিকতার জয়গান।
উদযাপন পরিষদ সকল ভক্তবৃন্দকে স্বপরিবারে উপস্থিত হয়ে মহোৎসবকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন,ভক্তি ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে আমরা গড়ে তুলতে চাই ন্যায় ও মানবতার সমাজ।”
মৌলভীবাজারে রাম নবমীর এই ঐতিহ্য বহু বছরের। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও আধ্যাত্মিক আবহ ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। শবরী থিমকে কেন্দ্র করে এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে হবে ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী।

No comments:
Post a Comment