ফিলিপাইনসের খনি থেকে উদ্ধার হল ১০০০০ বছরের পুরোনো ত্রিশূল এবং বজ্র । (old trident)এই দুটি প্রাচীন বস্তু নিয়ে ভারতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গবেষক ও ব্যবসায়ী সৈয়দ শামির হুসেন (বা সৈয়দ শামীর হুসেন) মুম্বইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দুটি বস্তু দেখান। এই ত্রিশূলটিকে তিনি ভগবান শিবের ত্রিশূল বলে দাবি করেছেন, এবং অপরটি বজ্র, যা দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রায়ুধ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ত্রিশূলটি প্রায় ১০,০০০ বছরের পুরনো এবং বজ্রটি ৩,০০০ বছরের।
এগুলো সনাতন ধর্মের প্রাচীন প্রতীক, যা ফিলিপাইনসের খননকার্য বা খনি থেকে ২০১৫ সালে পাওয়া গিয়েছে।সৈয়দ শামির হুসেন ফিলিপাইনসে খনির মালিক ও ব্যবসায়ী। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের মে মাসে খননের সময় এই দুটি বস্তু তাঁর হাতে আসে। প্রথমে তিনি এগুলোকে সাধারণ প্রাচীন জিনিস মনে করলেও পরে চিনতে পারেন যে এগুলো হিন্দু পুরাণের সঙ্গে যুক্ত। ত্রিশূলটি দেখে তিনি ভগবান শিবের ত্রিশূল বলে মনে করেন, যা সৃষ্টি, স্থিতি ও সংহারের প্রতীক।
বজ্রটি ইন্দ্রের অস্ত্র, যা বজ্রপাতের মতো শক্তিশালী। তিনি এগুলোকে বিক্রি না করে ভারতে নিয়ে আসেন, কারণ এগুলো হিন্দু ধর্মের সঙ্গে যুক্ত এবং ভারতের সম্পত্তি। ২০১৬ সালে ভারতে এনে তিনি গবেষণা করেন, প্রত্নতাত্ত্বিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং এখন এগুলো প্রকাশ্যে দেখিয়েছেন।এই দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এটাকে সনাতন ধর্মের প্রাচীনত্বের প্রমাণ বলে উদযাপন করছেন। তারা বলছেন, এটা প্রমাণ করে যে হিন্দু সভ্যতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনেক আগে থেকেই ছড়িয়ে ছিল।
ফিলিপাইনসে প্রাচীনকালে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব ছিল লাগুনা কপারপ্লেট ইনস্ক্রিপশন (৯ম শতাব্দী) তার উদাহরণ। হিন্দু-বৌদ্ধ প্রভাব সেখানে ছিল, কিন্তু ১০,০০০ বছরের পুরনো ত্রিশূলের মতো নির্দিষ্ট দেবতার অস্ত্র পাওয়ার দাবি নতুন।কিন্তু এই দাবি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে কোনও পিয়ার-রিভিউড গবেষণা বা সরকারি প্রতিবেদন নেই যা এগুলোকে ১০,০০০ বছরের পুরনো বলে নিশ্চিত করে।
ফিলিপাইনসের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এমন কোনও খননের রেকর্ড নেই যেখানে এই ধরনের বস্তু পাওয়া গেছে। অনেকে বলছেন, এগুলো হয়তো পরবর্তীকালের হিন্দু-প্রভাবিত শিল্পকর্ম বা অনুলিপি, কিন্তু এত প্রাচীন নয়। প্রমাণের অভাবে এটাকে ‘দাবি’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।সৈয়দ শামির হুসেন বলেছেন, তিনি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ও মিউজিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি চান এগুলো ভারতে সংরক্ষিত হোক এবং সাধারণ মানুষ দেখুক যে সনাতন ধর্ম কত প্রাচীন ও বিস্তৃত। এই ঘটনা হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, এটা প্রমাণ করে যে ভারতীয় সভ্যতা বিশ্বের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিল, এমনকি দূর প্রাচ্যেও।

No comments:
Post a Comment