সখিপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ: ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে স্বজনদের গোপন আঁতাতের গুঞ্জন
প্রতিবেদন: শান্ত চন্দ্র পাল
ময়মনসিংহ। ১৯ মার্চ ২০২৬,
টাঙ্গাইলের সখিপুরে ভুল চিকিৎসায় পূজা রানী কোচ (১৫) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ধোপারচালা গ্রামের মিন্টু কোচের মেয়ে পূজা রানী গত বুধবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ প্রসব ব্যথা নিয়ে পূজা রানীকে সখিপুরের লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ডি আই রেজাউল করিম কোনো প্রকার সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত সিজার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরে ডা. ডি আই রেজাউল করিম ও তার মেয়ে ডা. চাঁদনী মিলে পূজা রানীর সিজার সম্পন্ন করেন। সিজারের মাধ্যমে একটি সুস্থ সন্তান জন্ম নিলেও অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রসূতির জ্ঞান ফেরেনি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (সিসিইউ) টানা সাত দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বুধবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের স্বামী রনজিৎ (রঞ্জু) কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার সব শেষ হয়ে গেল। কোনো নিয়মকানুন না মেনে ডা. রেজাউল করিম ও তার মেয়ে ডা. চাঁদনী আমার স্ত্রীর সিজার করেছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে রহস্যের দানা বেঁধেছে অপারেশনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা রিপোর্টগুলো নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে যে, অপারেশনের কোনো রিপোর্ট এখন পর্যন্ত মূল পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রিপোর্টগুলো বর্তমানে পূজা রানীর মামা শ্বশুর ও পিসা শ্বশুরের নিকট রয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে একাধিকবার রিপোর্টগুলো চাওয়ার পরেও তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন। গুঞ্জন উঠেছে যে, তারা দুজন ক্লিনিক মালিকের সাথে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গোপনে আপস করেছেন এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বাঁচাতে নথিপত্রগুলো গায়েব করার চেষ্টা করছেন। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ডা. ডি আই রেজাউল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এক কিশোরী প্রসূতি মায়ের এমন অকাল মৃত্যুর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

No comments:
Post a Comment