/> চন্দনাইশে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বাৎসরিক মহোৎসব সম্পন্ন - Sanatan Tv
Vedic Video!Subscribe To Get Latest Vedic TipsClick Here

সাম্প্রতিক খবর

Sanatan Tv

সত্যের সন্ধানে অনুসন্ধান

Post Top Ad

চন্দনাইশে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বাৎসরিক মহোৎসব সম্পন্ন

 


নিজস্ব প্রতিনিধি: চন্দনাইশ উপজেলা 


কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বাৎসরিক মহোৎসব সম্পন্ন

 জগতের কল্যাণ কামনা এবং বিশ্বে সকল মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত এই মহোৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার ভক্ত-শিষ্য ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটে।


ঋষি পরম্পরায় অলংকৃত এই কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন পরমহংস মহাযোগী স্বামী সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজ। তাঁর আধ্যাত্মিক আদর্শ ও ধর্মীয় দর্শনের আলোকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আশ্রমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।


উৎসব উদযাপন পরিষদ ১৪৩২ বঙ্গাব্দের উদ্যোগে গত ১০ মার্চ ব্রহ্মমুহূর্তে ধ্বজা উত্তোলন ও সমবেত উপাসনার মধ্য দিয়ে মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান “তপোবন সঙ্গীত”। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনার পাশাপাশি গুরুমহারাজের জীবনাদর্শ ও আধ্যাত্মিক দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতের আয়োজনের মধ্যে ছিল শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞের অধিবাস এবং শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন।


মহোৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুপরিচিত কীর্তন সম্প্রদায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল চট্টগ্রামের গোপাল বাড়ি সম্প্রদায়, ভোলার বৈষ্ণব নারায়ণ দে সম্প্রদায়, পটিয়ার জিরি এলাকার জয় জগন্নাথ সম্প্রদায়, নোয়াখালীর সমাধি আশ্রম সম্প্রদায় এবং ভোলার প্রভু নিত্যানন্দ সম্প্রদায়। তাদের পরিবেশনায় আশ্রম প্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিকভাবে হরিনাম সংকীর্তনের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়।


উৎসবের দ্বিতীয় দিন গুরুমহারাজের সমাধিস্নান ও পুষ্পিত অলংকরণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মঙ্গলঘট স্থাপনের মাধ্যমে শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। একইদিন দীক্ষাদান, গুরুমহারাজের রাজভোগ নিবেদন এবং হাজার হাজার ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিকেলে গীতা হোমযজ্ঞের পূর্ণাহুতি ও সন্ধ্যারতি অনুষ্ঠিত হয়। রাতেও ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং সারারাতব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন চলতে থাকে।


তৃতীয় দিনও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীক্ষাদান, রাজভোগ নিবেদন, মহাপ্রসাদ আস্বাদন এবং সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তদের অংশগ্রহণে পুরো আশ্রম প্রাঙ্গণ ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে।


১৩ মার্চ উষালগ্নে সমবেত উপাসনার মাধ্যমে শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের পূর্ণাহুতি, বিশ্বমঙ্গল প্রার্থনা এবং ধ্বজা অবতরণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এই মহোৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমের আশ্রমাধ্যক্ষ যোগীশ্রেষ্ঠ স্বামী প্রাণজ্বলানন্দ পুরী মহারাজ।


আয়োজকরা জানান, ভক্ত-শিষ্যদের বিপুল উপস্থিতি এবং ধর্মীয় শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এবারের মহোৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আধ্যাত্মিক আয়োজন মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad