নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে বুধবার পুণ্যস্নানের লগ্ন শুরু হয়েছে বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে। লগ্ন শেষ হবে বৃহস্পতিবার ২টা ৫৬ মিনিটে। লগ্ন শুরুর পরপরই স্নানার্থীদের ঢল নামে ব্রহ্মপুত্র নদে। ২০টি স্নানঘাটে দল বেধে, সপরিবারে কেউবা এককভাবে ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী স্নানে অংশ নিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, শুক্লাঅষ্টমী তিথিতে এ নদীতে স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ঘটে এবং ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা শংকর কুমার দে জানান, বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে স্নান শুরু হয় এবং আজ দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে। এবার লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নান অনুষ্ঠিত হবে। পৌরাণিক বর্ণনা মতে, ত্রেতা যুগে ব্রাহ্মণ জমদগ্নি ও রেণুকার পুত্র পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে তপস্যা করেন। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে এক পবিত্র নদীতে স্নান করে পাপমুক্ত হন। পরবর্তীতে সেই পুণ্যধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে তিনি লাঙ্গল দিয়ে হিমালয় থেকে সমভূমিতে জলধারা নিয়ে আসেন। বর্তমান নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করলে স্থানটির নাম হয় ‘লাঙ্গলবন্দ’। স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ ও ২০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শিফটে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করবেন। নৌ পুলিশও মোতায়েন থাকবে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরো জানান, পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর বলেন, পুণ্যার্থীদের জন্য সেবাকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঈদের সময় হওয়ায় মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে, সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনপির ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের একজন এডিসি সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর টিম টহলে থাকবে। এছাড়া ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিকেল টিম, রোগী পরিবহনের জন্য রিকশা ও ৬টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে মেডিকেল ক্যাম্প ও পরিবহন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহানগর বিএনপির নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তার উদ্যোগে বন্দর ঘাট ও নবীগঞ্জ গুদারাঘাট থেকে আগত পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে লেগুনা বা অটোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment