নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলা, মঠ-মন্দির ভাঙচুর এবং নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রাজীব কান্তি শীল। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দুদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্বের মানবিক রাষ্ট্রসমূহ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে রাজীব কান্তি শীল বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে যে ধরনের সহিংসতা চলছে, তা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষ আজ নিজ দেশে পরবাসীর মতো আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।"
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। এমতাবস্থায় তিনি জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক ও মানবিক দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন:
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করা।
কূটনৈতিক চাপ: বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়।
মানবিক সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সরাসরি সহযোগিতা।
"সংখ্যালঘুদের ওপর এই আক্রমণ কেবল একটি ধর্মের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশ্ববিবেক যদি এখন চুপ থাকে, তবে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।" — রাজীব কান্তি শীল
বর্তমান প্রেক্ষাপট
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তথ্যানুযায়ী, অসংখ্য হিন্দু পরিবার বর্তমানে গৃহহীন এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। অনেক স্থানে উপাসনালয়গুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজীব কান্তি শীল মনে করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে এই মুহূর্তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি দেশপ্রেমিক সকল নাগরিককেও দল-মত নির্বিশেষে হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান।

No comments:
Post a Comment