
ব্যক্তি সমাজ বা জাতি ও বৈশিক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি বা জাতির আচরণ অন্য ব্যক্তি ও সমাজ বা জাতির প্রতি কেমন হবে তা নির্ধারনের মাপকাঠিই হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ ৷ এই মূল্যবোধ কতিপয় গুণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে যেমন মানবতাবোধ সৎসাহস ন্যায় বিচার সৎসঙ্গ সংযম অহিংসা প্রভৃতি৷আমরা জানি নৈতিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে বিচার করা যায় কে বা কোন জাতি কতটা সভ্য ৷ ব্যক্তি ও সামাজিক ক্ষেত্রে ধর্ম নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে ৷ আবার নৈতিক মূল্যবোধ থেকে বোঝা যায় কে কতটা ধর্মীয় মহৎ আদর্শ পালন করে ৷ সুতরাং ধর্মের সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে৷ হিন্দুধর্মের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য ৷
আমরা জানি নীতি কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনোটা ভাল কাজ আর কোনটা মন্দ কাজ তা উপলগ্ধি করে ভালো কাজ করায় উদ্বুগ্ধ হওয়া এবং ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করার প্রবনতা৷নীতির সঙ্গে জড়িত যে বিষয় তাকে বলা হয় নৈতিকতা৷ নৈতিক শিক্ষার অর্থনীতি সম্পর্কীত শিক্ষা৷ সত্য কথা বলা উচিত তাই আমরা সর্বদা সত্য কথা বলবো৷ গুরুজনদের ভক্তি করা কর্তব্য তাই সবাই গুরুজনদের ভক্তি করবো তাদের সেবা করবো৷ঈশ্বর জ্ঞানে জীবের সেবা করবো কারণ জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর বিরাজ করে ৷এভাবে নৈতিক শিক্ষা থেকে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের যে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হয় তার নাম মূল্যবোধ৷সকল মানুষেরই এই মূল্যবোধ থাকা প্রয়োজন৷যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে বা সমাজে এ ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে আমরা বলি মূল্যবোধের অভ্যক্ষয় ঘটেছে৷ এ মূল্যবোধের প্রকাশ নানাভাবে ঘঠতে পারে যেমন রুচি বা সৌন্দর্য্য সম্পর্কে মূল্যবোধ জগৎ ও জীবন সম্পর্কে মূল্যবোধ ইত্যাদি৷ ব্যক্তি বা সমাজ জাতি বা আন্তর্জাতিক এই তিন পর্যায়েই নির্দিষ্ট মূল্যবোধ ধারা আমরা পরিচালিত হই৷ মূল্যবোধকে যখন রীতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয় তখন তাকে বলা হয় নৈতিক মূল্যবোধ৷ মূল্য কথাটি দ্বারা মান বা পরিমান বোঝায়৷ মূল্যবোধ হচ্ছে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার বোধের একটা অংশ মাত্র৷ সুতরাং এদিক থেকে নৈতিক মূল্যবোধ মূল্যবোধের একটা মানকে নির্দেশ করে যেমন কোনো মানুষকে আমরা কেমন দৃষ্টিতে দেখবো? নৈতিক মূল্যবোধ বলে নিজের সমান জ্ঞান করতে হবে ৷কিন্তু আমরা অনেক সময় পেশাভিত্তিক পদমযর্দা প্রভৃতি বিবেচনা করে কারো সঙ্গে ব্যবহারের মান নির্ধারন করি৷এতে নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘঠে না৷যখন মানুষকে প্রকৃতময় মর্যাদা ও সম্মান দিতে বিত্ত পেশা পদমর্যাদা ধর্ম মত বিবেচনায় না দিয়ে সামনের দৃষ্টিতে দেখি তখন তার মধ্যে ঘটে নৈতিক মূল্যবোধের প্রকৃত প্রকাশ৷ ধর্মের সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে৷ধর্ম সম্মত জীবন যাপনের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘঠে আবার নৈতিক মূল্যবোধগুলো ধর্মের অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হই৷ হিন্দুধর্ম নৈতিক মূল্যবোধের একটি উচ্চমান প্রত্যাশা করে৷ যিনি ধার্মিক তার আচরণের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটতেই হবে কারণ নৈতিক মূল্যবোধ গুলো ধর্মের অঙ্গ ৷ এখানে আমরা হিন্দু ধর্মের আলোকে ন্যায় বিচার সৎসঙ্গ সংযম অহিংসা এ মূল্যবোধগুলো সম্পর্কে জানলাম৷
একসঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে তার নাম সমাজ ৷ সমাজে সকলকে মিলেমিশে থাকতে হয়৷ কিন্তু নানা কারণে সমাজের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিল দেখা দেয় ৷ মতের অমিল এ পরিণত হয়ে ঝগড়া পর্যন্ত গড়ায় ৷ তখন দুপক্ষের মধ্যে কাউকে অভিভুক্ত করলেই তাকে দন্ড দেয়া যাই না৷ আসলেই সে অপরাধী কিনা তা নির্ধারন করতে হয়৷ কোনো বিষয়কে সঠিক এবং কে ভ্রান্ত অভিভুক্ত ব্যক্তি অপরাধী না নিরপরাধ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের যে পদ্ধতি তার নাম বিচার আর অপরাধীকে সঠিক শাস্তি দেয়া হলো ন্যায়বিচার ৷ এটাও মূল্যবোধের অংশ
No comments:
Post a Comment