ধর্মান্তরিত ছেলের মরদেহ গ্রহণ করেননি বাবা, দাফন করলেন সহপাঠীরা! - Sanatan Tv
Vedic Video!Subscribe To Get Latest Vedic TipsClick Here

সাম্প্রতিক খবর

Sanatan Tv

সত্যের সন্ধানে অনুসন্ধান

Post Top Ad

ধর্মান্তরিত ছেলের মরদেহ গ্রহণ করেননি বাবা, দাফন করলেন সহপাঠীরা!


 

কক্সবাজার চকরিয়ার ছেলে ঢাকা বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র সাঈদের মরদেহ তার বাবা গ্রহণ না করায় বাড্ডা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব জানাজার পর রাতেই তাকে দাফন করা হয়। এতে সহযোগিতা করেছেন তার সহপাঠীরা।

এর আগে বুধবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তিনি।

জানা যায়, সাঈদ আবদুল্লাহর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের হেতালিয়া পাড়ায়। তার নাম জুয়েল শীল, পিতা বিধু কুমার শীল। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং তার সঙ্গে সম্পর্কছেদ করে।

সাঈদ এসএসসি পাস করে ঢাকায় গিয়ে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। টিউশনির টাকায় জীবন চালাতেন তিনি। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে অপেক্ষায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু ট্রেনে কাটা পড়ে অবসান হলো তার জীবন সংগ্রামের।

রেলওয়ে থানা (ঢাকা-জিআরপি) জানায়, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাঈদ। জিআরপি থানার পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায়।

সাঈদের মৃত্যুর খবর শুনে তার বাবা মাকে মরদেহ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করতে যায় এলাকাবাসী। তখন তার বাবা মরদেহ গ্রহণ করবে না বলে জানান।

চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, সাঈদের পিতা বিধু কুমার শীল ছেলের মরদেহ গ্রহণ করবেন না বলে লিখিত দিয়েছেন। বিষয়টি তেজগাঁও থানাকে অবগত করা হয়েছে।

তেজগাঁও থানার ওসি অপুর্ব হাসান  বলেন, সাঈদের মরদেহ তার বাবা গ্রহণ করবেন না মর্মে চকরিয়া থানার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে ঢাকা বিজ্ঞান কলেজের সহপাঠীদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে সাঈদ আবদুল্লাহর সহপাঠীরা জানান, ঢাকায় অনেক কষ্ট করে জীবন চালাতেন তিনি। কিন্তু কারো কাছে কিছু খুলে বলত না। পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও সাঈদ তার মায়ের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখত। এইচএসসির রেজাল্ট দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই বাড়িতে গিয়ে গোপনে মায়ের সঙ্গে দেখা করার ছিল তার। সে আশা আর পূরণ হলো না।

সাঈদের মরদেহ গ্রহণ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ায় পরে চকরিয়া থানা ও কমলাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় সহপাঠীরা তার মরদেহ গ্রহণ করে। পরে শুক্রবার বাদে মাগরিব বিজ্ঞান কলেজ মাঠে জানাজা শেষে রাতেই বাড্ডা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad