নয়াদিল্লি: হিন্দু দেবদেবী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠির একটি ভিডিও ভারতে ব্লক করেছে গুগল। দিল্লি হাই কোর্টে শুনানির সময় গুগলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী সরিয়ে দেওয়া হয়নি। গুগল জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের Grievance Appellate Committee (GAC)-এর নির্দেশের পর ভারতে ভিডিওটির অ্যাক্সেস সীমিত করা হয়েছে।
কোন ভিডিও নিয়ে বিতর্ক?
মামলার সূত্রে জানা যায়, ধ্রুব রাঠি গত ২১ মার্চ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ‘Can Hindus Eat BEEF? | Kerala Story 2 EXPOSED’ শিরোনামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। ভিডিওটির বিষয়বস্তু নিয়ে অভিযোগ করেন আইনজীবী অমিতা সচদেবা।
অভিযোগকারীর দাবি, ভিডিওটিতে হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ ও দেবদেবীদের নিয়ে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং অবমাননাকর বলে বিবেচিত হতে পারে।
দিল্লি হাই কোর্টে মামলা
ভিডিওটি সরানোর দাবিতে আইনজীবী অমিতা সচদেবা দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। জুলাই মাসে আদালত কেন্দ্রের Grievance Appellate Committee-কে বিষয়টি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিবেচনা করার নির্দেশ দেয়।
এরপর ১৫ জুলাই GAC ভিডিওটি সরানোর নির্দেশ দেয় বলে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে ভিডিওটি নিয়ে ইউটিউবের পদক্ষেপের বিষয়টি আদালতে উঠে আসে।
ভারতে ব্লক, বিশ্বজুড়ে নয়
১১ আগস্টের শুনানিতে গুগলের পক্ষ থেকে দিল্লি হাই কোর্টকে জানানো হয়, GAC-এর নির্দেশ অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি ভারতে withheld বা ব্লক করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী ইউটিউব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী পক্ষ বিশ্বব্যাপী ভিডিওটি সরানোর বিষয়েও আবেদন জানিয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কী অভিযোগ উঠেছে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে?
মামলাকারীর অভিযোগ, ভিডিওতে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন বক্তব্য ও দেবদেবীদের প্রসঙ্গ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে ভগবান রাম, সীতা ও শ্রীকৃষ্ণের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ধ্রুব রাঠির বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এগুলো মামলাকারীর অভিযোগ ও বিতর্কের বিষয়, আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
পরবর্তী শুনানি কবে?
মামলাটি এখনও বিচারাধীন। সর্বশেষ শুনানির পর ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধ্রুব রাঠির ভিডিও নিয়ে এই আইনি বিতর্ক ইতিমধ্যে অনলাইন কনটেন্ট, ধর্মীয় অনুভূতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

No comments:
Post a Comment