হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা সদরের কোর্ট মসজিদের সামনের ময়দান থেকে তাকে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে মাহাদী হাসানসহ কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। পরে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহাদীকে তাদের সঙ্গে যেতে অনুরোধ করে। তিনি যেতে অনীহা প্রকাশ করলে পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মাহাদীকে থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, নিরাপত্তার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বক্তব্য নিয়ে আগেও বিতর্ক
এর আগে পুলিশকে হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন মাহাদী হাসান। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করার পর মাহাদী তার অনুসারীদের নিয়ে থানায় গিয়ে আটকের বিষয়ে জানতে চান বলে জানা যায়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে মাহাদীকে অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’—এমন বক্তব্য দিতে শোনা যায়। বক্তব্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
পরে পুলিশ মাহাদীকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়। তবে আদালতের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ফিনল্যান্ডের ভিসা আবেদন ঘিরেও আলোচনায়
থানা পোড়ানোর বক্তব্যের কিছুদিন পর ফিনল্যান্ডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা আবেদনের জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে যান মাহাদী হাসান বলে জানা গেছে। কয়েক দিন পর দেশে ফেরার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর জুন মাসে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করছেন—এমন দাবি করে নিরাপত্তার আশঙ্কায় নিজেই সদর মডেল থানায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মাহাদী।
কেন পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলো?
সোমবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে মাহাদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাকে কী কারণে এবং কতক্ষণ হেফাজতে রাখবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

No comments:
Post a Comment