লখনউ: লখনউয়ের হাইকোর্টের ছাদে এক তরুণীর অশ্রুসিক্ত প্রতিবাদ। চোখের জলে ভেসে তিনি চিৎকার করে বিচার চাইলেন। (High Court)অভিযোগ একাধিক মুসলিম যুবকের দ্বারা গণধর্ষণ, জোর করে ধর্মান্তর এবং প্রাণনাশের হুমকি। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের রাজধানীতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন।
১০ এপ্রিল, এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের ছাদে উঠে দাঁড়ান গোন্ডা জেলার এক তরুণী। চোখে জল, গলায় কান্না। তিনি হুমকি দেন, যদি তাঁর অভিযোগে এফআইআর না নেওয়া হয়, তাহলে তিনি লাফিয়ে পড়বেন। আশেপাশে কর্মীরা, পুলিশ, আইনজীবীরা ছুটে আসেন। অনেক কষ্টে তাঁকে নামিয়ে আনা হয়। তারপর তিনি তাঁর ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলেন।তরুণীর অভিযোগ, কয়েকজন মুসলিম যুবক তাঁকে বারবার গণধর্ষণ করেছে
শুধু তাই নয়, জোর করে তাঁকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং বিয়ে করার চাপ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা তাঁকে হুমকি দিয়েছে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে প্রাণে মেরে ফেলবে। তিনি বলেন, “আমি আর সহ্য করতে পারছি না। বিচার চাই।” এই ঘটনা ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হয়ে যায়।পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু হিন্দু সংগঠনগুলো বলছে, এটা শুধু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। তাঁরা দাবি করছেন, অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে অন্য কোনো মেয়ে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার না হয়।এই ঘটনায় লখনউয়ের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু যুবক-যুবতীরা প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। অনেকে বলছেন, “মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? একটা মেয়ে হাইকোর্টের ছাদে উঠে বিচার চাইতে বাধ্য হয়, এটা কোন সমাজ?”
ভিএইচপি, বজরং দলসহ বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়ে বলেছে, প্রশাসন যেন কোনোরকম প্রভাবিত না হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে। ধর্মের নামে কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না।তরুণীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তাঁরা চরম আতঙ্কে আছেন। মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাঁরা চান, দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হোক। আইনজীবীরা বলছেন, এমন গুরুতর অভিযোগে পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি।

No comments:
Post a Comment