বিজয় সরকার, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চিফ - সনাতন টিভি
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পাইকপাড়া এলাকায় এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন শতভূজা বাসন্তী পূজা। ভক্তদের মাঝে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে, যেখানে দেবী দুর্গাকে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০টি হাত নিয়ে—যা শক্তি, সুরক্ষা ও অশুভ শক্তির বিনাশের এক মহিমান্বিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
আয়োজক কমিটির সভাপতি বিরজীৎ দেবনাথ জানান, শতভূজা রূপে মহামায়া দুর্গার এই প্রতিমা কেবল শৈল্পিক দিক থেকেই নয়, আধ্যাত্মিক ভাবনাতেও অনন্য। দেবীর প্রতিটি হাত যেন মানব জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট দূর করে কল্যাণের বার্তা বহন করছে।
আগামী ২৪ মার্চ ধূপ-শঙ্খের পবিত্র ধ্বনিতে দেবীর বোধন ও মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২৫ মার্চ মহাসপ্তমীর পুণ্য তিথি পালনের পাশাপাশি সন্ধ্যারতির পর অনুষ্ঠিত হবে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২৬ মার্চ পবিত্র মহাষ্টমীতে সকাল ১১টায় পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের আয়োজন রাখা হয়েছে। এরপর দুপুর ১টায় ভক্তদের জন্য থাকবে মহাপ্রসাদ বিতরণ। একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধিপূজার পবিত্র আয়োজন, যা ভক্তদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
২৭ মার্চ মহানবমীর যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ভক্তিময় পরিবেশ বিরাজ করবে। রাতের সাংস্কৃতিক আয়োজনও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
সবশেষে ২৮ মার্চ বিজয়া দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানানো হবে। ভক্তদের হৃদয়ে রেখে যাবে এক বছরের অপেক্ষার আবেগঘন মুহূর্ত।
আয়োজক কমিটি সকল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন—যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজামণ্ডপে এসে দেবীর আশীর্বাদ গ্রহণ করার জন্য। তারা বলেন, “মায়ের মন্দিরের আলোকসজ্জার চেয়েও বড় উজ্জ্বলতা হলো ভক্তদের উপস্থিতি।”
এদিকে শতভূজা দুর্গার এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা দেখতে এবং পূজার আধ্যাত্মিক আবহ উপভোগ করতে ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা

No comments:
Post a Comment