স্বামী হত্যার সন্দেহভাজন আসামিদের মামলায় নাম দিয়ে ধরার কথা বলায় এক অসহায় নারীকে লাথি মারতে চাইলেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। এমন এক অভিযোগ করেছেন নিহত অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজনের স্ত্রী দিপা রানী।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে এ অভিযোগ করেন তিনি। অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন হত্যার বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতি।
মানববন্ধনে দিপা রানী অভিযোগ করে বলেন, সদর থানার ওসি অজ্ঞাতনামা মামলা দেন। প্রকৃত আসামিদের নাম দিয়ে ধরার কথা বললে আমার দেবরসহ আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। এমনকি আমাকে লাথি মারার কথা বলেন থানার ওসি। এছাড়া পুলিশ আমার দেবর ও আমার সম্পর্কে বাজে কথা বলা শুরু করে। আমার স্বামী মারা যাওয়া এম্বুলেন্সে কান্না করছিলাম দেখে ওসি তার রুমে নিয়ে গিয়ে বলে এসব ‘ন্যাকামি কান্না’ আমার সামনে চলবে না। আরও নানা প্রকার ভয়ভীতি দেখায়, জোর করে বলে তোমরাই অপরাধী। অথচ সন্দেহভাজন বিমলের ছেলে লিমন মিয়াকে ছেড়ে দেয় তারা। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহত সুজনের মা সিন্দু রানী কালবেলাকে জানান, ‘স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে সম্প্রতি ১১ শতক জমি কেনেন সুজন। প্রতিবেশি বিমল কুমার সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছেলে লিমন কুমার ওই জমি কিনতে না পেরে ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগেও তাদের মধ্যে অন্য একটি জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কিছুদিন আগে লিমন সুজনকে হত্যার হুমকি দেয়। তারপরই এই ঘটনা ঘটে। তার সন্দেহ হামলাকারী লিমন হতে পারে।’
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র আইনজীবী সহকারী মাজু, আইনজীবী সহকারী আলম, ছকু, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুন্নান হক্কানী।
বক্তারা, আইনজীবী সহকারী সুজন হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুন্নান হক্কানী বলেন, একজন সদর থানার ওসি এমন আচরণ করতে পারে? ধিক্কার জানাই, সেই সঙ্গে এই ওসির প্রত্যাহার দাবি করছি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন কালবেলাকে বলেন, এই নারী যা বলছে তা সত্য নয়। সবই মিথ্যা বানোয়াট।
এ বিষয়ে জানতে গাইবান্ধা জেলার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ-এ খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার খামার বল্লমঝাড় গ্রামে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুর্বৃত্তদের কুড়ালের আঘাতে জেলা জজকোর্টের আইনজীবী সহকারী (মুহুরী) অমিতাভ চন্দ্র রায় ওরফে সুজন (৩৫) নিহত হয়েছেন। তিনি খামার বল্লমঝাড় গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত নিরঞ্জন চন্দ্র সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় লিমন কুমার নামে এক প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ।
নিউজ সূত্র : কাল বেলা

No comments:
Post a Comment