আজ মকর সংক্রান্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের দিন - Sanatan Tv
Vedic Video!Subscribe To Get Latest Vedic TipsClick Here

সাম্প্রতিক খবর

Sanatan Tv

সত্যের সন্ধানে অনুসন্ধান

Post Top Ad

আজ মকর সংক্রান্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের দিন

 




অজয় মিত্র, নিজস্ব প্রতিনিধি 


মকর সংক্রান্তি (বা পৌষ সংক্রান্তি) হলো হিন্দুধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক উৎসব। এটি মূলত সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে (ধনু থেকে মকর রাশি) প্রবেশের মুহূর্তকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। অনেক জায়গায় বৌদ্ধ, শিখ, জৈন সম্প্রদায়ও নানান ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিনটি পালন করেন।



১. মকর সংক্রান্তি ২০২৬-এর তারিখ ও সময়


জ্যোতিষশাস্ত্র এবং পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তি পালিত হচ্ছে আজ ১৪ জানুয়ারি, বুধবার।


সংক্রান্তি মুহূর্ত: ভারতীয় সময় দুপুর ৩:০৭ মিনিটে (মতান্তরে ৩:১৩ মিনিট) সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করবে।


পুণ্যকাল: দুপুর ৩:০৭ মিনিট থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কাল দান ও স্নানের জন্য অত্যন্ত শুভ।



২. উৎসবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য


উত্তরায়ন শুরু: এই দিন থেকে সূর্য দক্ষিণায়ন শেষ করে উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে, যাকে 'উত্তরায়ন' বলা হয়। মনে করা হয়, উত্তরায়নের সময় মৃত্যুবরণ করলে মোক্ষ লাভ হয় (যেমন মহাভারতের ভীষ্ম এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন)।


ফসলি উৎসব: এটি একটি নতুন ফসল কাটার উৎসব (Harvest Festival)। কৃষকরা তাদের ফসলের জন্য প্রকৃতি ও সূর্যদেবকে ধন্যবাদ জানায়।


আধ্যাত্মিক বিশ্বাস: হিন্দু পুরাণ মতে, এই দিন সূর্যদেব তার পুত্র শনির ঘরে বেড়াতে যান। তাই এটি পারিবারিক সম্পর্কের সুদৃঢ় করার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।



৩. পালিত বিভিন্ন প্রথা


পুণ্যস্নান: গঙ্গা বা অন্য যে কোনো পবিত্র নদীতে স্নান করা এই দিনের প্রধান রীতি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গাসাগর মেলা এই সময়েই আয়োজিত হয়।


পিঠে-পুলি ও খাবার: বাঙালি পরিবারে এদিন নতুন ধানের চাল দিয়ে নানা রকমের পিঠে, পায়েস এবং তিল-গুড়ের লাড্ডু তৈরি করা হয়।


দান-খয়রাত: তিল, গুড়, কম্বল এবং খাদ্যশস্য দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়।


ঘুড়ি ওড়ানো: বিশেষ করে ঢাকা (সাকরাইন হিসেবে) এবং ভারতের গুজরাটে এদিন আকাশ রঙিন ঘুড়িতে ভরে যায়।



৪. বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন নাম


মকর সংক্রান্তি উৎসব বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় 'সংক্রান্তি' বা 'পেড্ডা পণ্ডুগা', ভোজপুরি অঞ্চলে 'খিচারি', আসামে 'মাঘ বিহু', হিমাচল প্রদেশে 'মাঘি সাঝি', কেরালায় 'মকরাভিলাক্কু', কর্ণাটকে 'মকর সংক্রান্তি', পাঞ্জাবে 'মাঘি সাংগ্রান্দ', তামিলনাড়ুতে 'পোঙ্গল', জম্মুতে 'মাঘি সাংগ্রান্দ' বা 'উত্তরায়ণ', হরিয়ানায় 'সাকরত', রাজস্থানে 'সাকরাত', মধ্য ভারতে 'সুকরাত', গুজরাট ও উত্তর প্রদেশে 'উত্তরায়ণ', উত্তরাখণ্ডে 'ঘুগুটি', বিহারে 'দই চিড়া', ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, গোয়া, এবং পশ্চিমবঙ্গে 'মকর সংক্রান্তি' (যা বাংলায় 'পৌষ সংক্রান্তি' বা 'মকর সংক্রান্তি' নামেও পরিচিত), উত্তর প্রদেশে 'খিচরি সংক্রান্তি', উত্তরাখণ্ডে 'উত্তরায়ণি', নেপালে 'মাঘে সংক্রান্তি', থাইল্যান্ডে 'সংক্রান', মিয়ানমারে 'থিংজান', কম্বোডিয়ায় 'মোহন সংক্রান', মিথিলায় 'তিল সাকরাত', এবং কাশ্মীরে 'শিশুর সেংক্রাথ' নামে পরিচিত।


মকর সংক্রান্তির দিনে সারা ভারতজুড়ে সূর্যদেব, বিষ্ণু, লক্ষী দেবীর পূজা করা হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad