রানার প্রতিবেদন : অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ না হলে পাকিস্তানকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া বন্ধ করে দেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। এই ভাষাতেই পাকিস্তানকে চরমপত্র পাঠালো ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে লেখা এই চরমপত্রে বলা হয়েছে, যে সমস্ত দল ও সংগঠন এই ধরনের অত্যাচার চালাচ্ছে সেগুলিকে অবিলম্বে ধ্বংস না করা হলে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। ৫১টি রাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট জানিয়েছে, আর্থিক ক্ষেত্র সহ অন্যান্য যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাকিস্তান পেয়ে থাকে তা বাতিল করে দেওয়া হবে।
এনডিটিভি প্রকাশিত এই খবরে বলা হয়েছে, এই চরমপত্র নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। তার মূল কারণ, ভারত লাগাতার চেষ্টা করছে, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা করতে, এই ঘটনায় সেটাই জোরদার হলো। এছাড়া ভারত বহু দিন থেকে পাকিস্তানের হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের চরমপত্রে এই ধর্মান্তকরন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। চরম পত্রে বলা হয়েছে,
পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মেয়েরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। মুভমেন্ট ফর পিস এন্ড সলিডারিটি ইন পাকিস্তান নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এক ভয়াবহ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্টও উল্লেখ করা হয়েছে চরমপত্রে। বলা হয়েছে, প্রতিবছর গড়ে একহাজার হিন্দু ও খ্রিস্টান মহিলা এমনকি কিশোরীকেও অপহরন করে মুসলিম পুরুষের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভারত মনে করছে, এই চরম পত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এই অভিযোগ স্বীকার করে নিল যে, পাক সরকারের ছত্রছায়াতেই বাড়বাড়ন্ত দেখাচ্ছে, ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলি। সম্প্রতি পাকিস্তানে দুই হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে বলপূর্বক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের কাছে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়ে এর বিহিত চায় নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে , পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে উগ্র মুসলিম সংগঠনগুলি। পাকিস্তান সরকার সব দেখেও নিরবে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। জোর করে মুসলিম ধর্ম নিতে বাধ্য করা, শারীরিক অত্যাচার, খুন, ব্যবসা বাণিজ্য দখল নেওয়া , বসতভিটে কেড়ে নেওয়া প্রায় নিত্য দিনের ঘটনা। এবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ায় খুশি ভারত সরকার।

No comments:
Post a Comment