
চট্টগ্রাম
নগরীর বক্সিরবিট এলাকা থেকে হাত ভাঙা ও গলায় গামছা প্যাঁচানো এক স্বর্ণ
দোকান কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় পুষ্পল
কুমার চন্দ নামে ওই কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন,
লাশটি উদ্ধারের পর আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে মূল রহস্যটি
উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়েছি। অনেকেই দাবি করেছেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে
বিষয়টি কী আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু- তা খতিয়ে দেখছি। তবে পুলিশের একটি
সূত্রে বলা হয়, আইপিএলের বাজিতে হেরে মানসিক যন্ত্রণা থেকে ওই কর্মচারি
আত্মহত্যা করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নিহত পুস্পল (২৮) রাউজানের জানালি হাট এলাকার মৃত বীরেন্দ্র চন্দ্রের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি রাত ১১টা ০৫
মিনিটে তার বৌদিকে সর্বশেষ ফোন করেছিলেন। এ সময় তিনি তাকে আধঘণ্টা পর
বক্সিবিটে আসার জন্য বলেছিলেন। পরে রাত ১১টা ২০/২৫ মিনিটে স্থানীয়রা তার
লাশটি দেখতে পান। যে স্থান থেকে পুষ্পলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তার পাশেই
একটি দশতলা ভবন রয়েছে।
ভবনটির আশেপাশের লোকজন জানান, পুস্পল
নিয়মিত ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়া খেলতো। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের
(আইপিএল) খেলা চলছে। যে ভবন থেকে পুস্পল নিচে পড়েছে সেখানে আরো একাধিক যুবক
রয়েছে যারা ক্রিকেট নিয়ে নিয়মিত জুয়া খেলে। ধারণা করা হচ্ছে ক্রিকেট নিয়ে
জুয়া খেলতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হওয়ার কারণে পুস্পল হয়তো হতাশাগ্রস্ত লাফ দিয়েছে।
তার সাথে প্রায় সময় থাকতো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন দুইজন সহপাঠী জানান,
ক্রিকেট জুয়া খেলতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছিলো। টাকার জন্য তার কাছে প্রায় সময়
পাওনাদার আসতো। এসব বিষয় নিয়ে বেশ হতাশাগ্রস্ত ছিলো পুস্পল।
সোমবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় কথা হয়
পুস্পলের বড় ভাই উত্তম চন্দ্রের সাথে। তিনি সীতাকুন্ড এলাকা একটি বেসরকারি
কোম্পানিতে চাকুরি করেন। তিনি জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে পুস্পল ছোট। ছোট
বেলায় বাবা মারা গেছেন। পুস্পল স্বর্ণালংকারের কারিগর ছিলো। ভাল ডিজাইনের
অলংকার তৈরি করতে পারতো। বাহ্মণবাড়িয়ার নবী নগরে অলংকার তৈরির কাজ শিখেছে।
প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করতো। নবী নগরে থাকা অবস্থায় তার কাছে
৮/১০ লাখ টাকাও জমা ছিলো। তিন চার বছর ধরে ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলা শুরু করে
সে। নিয়মিত ক্রিকেট জুয়া খেলতো। পরিবারের সদস্যদের সাথে তেমন যোগাযোগ
রাখতো না। তবে রবিবার রাত আনুমানিক এগারোটার দিকে তার বৌদিকে ফোন দিয়ে
আধাঘণ্টা পরে বক্সির বিটে আসতে বলেন। বৌদি মনে করেছে হয়তো দুষ্টুমী করেছে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কোতোয়ালী পুলিশের
পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, লাশটির দুই হাত ভাঙা ও কপালে
আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে হাঁড় বিচ্ছিন্ন ছিল বলে
জানিয়েছেন চিকিৎসক। এতে ধারণা করছি, ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে তিনি
আত্মহত্যা করেছেন।
No comments:
Post a Comment