
বেঙ্গালুরু: মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি সেই সঙ্গে নেই গোফ। এমনই এক যুবক পরিষাক্র করছে রাম মন্দির। ভগবান শ্রী রামের প্রতি ভক্তি এবং নিষ্ঠা অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
এক ঝলক দেখলেই মনে হবে একজন মুসলিম ব্যক্তি রাম মন্দিরে কাজ করছেন। হয়তো সেটা ভুল! কিন্তু, সত্যিই একজন মুসলিম যুবকই ব্যস্ত রয়েছেন ওই মন্দিরের কাজে। এই ভগবানের মন্দিরে এসেই মানসিক শান্তি খুঁজে পান তিনি। সেই কারণেই মুসলিম হয়েও নিয়মিত আসেন ওই ব্যক্তি।
আলোচিত ব্যক্তির নাম সাদ্দাম হোসেন। কর্ণাটকের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগরের রাম মন্দিরে তাঁকে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত মন্দিরের পুজোয় সাহায্য করতে। গত তিন বছর ধরে এই মন্দিরের সঙ্গে তিনি যুক্ত রয়েছেন। প্রতি বছরে রাম নবমীর আগে তিনি মন্দিরে আসেন। এবং মন্দিরের যাবতীয় কাজকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকেন। এই বছরেও রাম মন্দিরের মরশুমে রাজাজিনগরে হাজির হয়ে গিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন।
মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দা এবং মন্দিরে আগত ভক্তরা কারোরই সাদ্দাম হোসেনকে নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। একজন মুসলিম ব্যক্তির রাম বন্দনাকে খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছেন সকলে। মন্দির কমিটির সদস্য ভেঙ্কটেশ বাবুর হাত ধরে এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন সাদ্দাম।
সেই ভেঙ্কটেশ বাবু বলেছেন, “আমার সঙ্গে সাদ্দামের দির্ঘ ১৮ বছরের পরিচয়। মন্দির কমিটির সদস্য হওয়ার পরে যখন দায়িত্ব পেলাম তখন সাদ্দামকেও এখানে নিয়ে আসি।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “সাদ্দাম হোসেনকে মন্দির পরিষ্কার করার কাজ দেওয়া হয়। পরে ও মন্দিরের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছে যে প্রতি বছর রাম নবমীর সময়ে মন্দিরের কাজ করতে চলে আসে।”
মন্দির কমিটি এবং মুসলিম ব্যক্তি সাদ্দাম হোসেনের সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজাজিনগর এলাকায়। সমগ্র এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এই সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এই বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, “জন্মসূত্রে আমি মুসলিম কিন্তু গত তিন বছর ধরে আমি এই মন্দিরে কাজ করছি। এই মন্দিরে আসতে আমার খুব ভালো লাগে, মানসিক শান্তি খুঁজে পায়।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “আমি খুব নিষ্ঠার সঙ্গে মন্দির পরিষ্কারের কাজ করি। এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না।” এলাকার সকল হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর কাজের প্রশংসা করে বলে দাবি করেছেন সাদ্দাম হোসেন।
No comments:
Post a Comment