সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি অবনতি দিকে যাচ্ছে এলাকার পরিস্থিতি।
থানার অভিযোগ সুত্রে জানা যায় গত ২৪/২/১৯ইং রোজ রবিবার আছরের নামাজের পর সনকাই চৌরঙ্গী মহাশ্মশানের নবনির্মিত কালী মন্দির ও সমাধিস্থল ভাংচুর করে একই গ্রামের জনৈক মোঃ মান্নান(৫৫) ইস্কান্দার মির্জা (৫০) সহষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনৈক শফিকুল ইসলাম বাবুর(৪০)নেতৃত্বে দুই শতাধিক দুর্বৃত্ত। এতে সংখ্যালঘুদের মাঝে জনৈক গন্ডিরাম(৫৫)সহ সাত জন আহত হন বলে জানা যায়।
বোচাগঞ্জ থানা ও উপজেলা প্রশাসন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বোচাগঞ্জ থানার ইনচার্জ পৌঁছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর দিন ২৫/২/ ১৯ইং সমবার ৩২জন চিহ্নিত ও শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে জনৈক অভয় রায়(৪০) বাদী হয়ে মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার একদিন পরেই আসামিরা কোর্টে জামিনে মুক্তি পেলে স্থানীয় জনতা ২৮শে ফেব্রুয়ারি চৌরঙ্গী বাজারের অপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।।
অতঃপর গত বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) মসজিদের ইমাম আমানুল্লাহ সরকার(২৪) পিতা মৃত তরিকুল ইসলাম মসজিদ ভাংচুরের চেষ্টা, দশটি দোকান ভাঙচুর ও ১০ লক্ষ টাকা লুটপাটের অভিযোগ এনে ৪০ জন চিহ্নিত ও অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দায়ের করেন। এমন অবস্থায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পরলে গত ১৩ই এপ্রিল বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী জনাব আবছার আলী চৌরঙ্গী বাজারের নৌকার পক্ষে একটি জন সমাবেশ করে।
সমাবেশে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি হুঁশিয়ারি কন্ঠে বলেন যারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে হামলা মামলা করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনসমাবেশের ঐ গভীর রাত্রেই কে বা কাহারা চৌরঙ্গী বাজারের জামে মসজিদের দুই জানালার কাঁচ ও মসজিদের টিওবলের হাতা ভেঙে মসজিদের ওয়াল কাঁদা ছিটিয়ে বিশ্রী করে।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বক্তব্যে বলেন মসজিদ ভাংচুরের ঘটনা সুপরিকল্পিত মনে হয় আমার কাছে কেননা দুর্বৃতরা মসজিদ ভাংচুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো কিন্তু মসজিদে কাঁদা ছিটিয়ে বিশয়টি পরিস্কার বোঝা যায় যে তাদের লক্ষ্য মসজিদ ভাংচুরের নয় মসজিদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি করা। তাছাড়া মসজিদ ভাংচুরের চেষ্টা এইরুপ মামলা দায়েরের ৫দিন পর মসজিদ ভাংচুর বিষয়টি কৌতূহলের বটে। অপরাধী যেই হোক সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কঠিন শাস্তি দাবি জানাই এলাকাবাসী।
এব্যাপারে মসজিদের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় স্থানীয় ভাবে চরম উৎতপ্ত পরিস্থিতি বিরাজমান বলে অনেকেই মনে করে বলেন, যে কোন মুহুর্তে নাসিরনগরের মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীরা। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে আমি সেই সাজ্জাদ নামের একটি আইডি থেকে পোষ্ট করে দাবি করেছেন যে হিন্দুরা মসজিদ ভেঙ্গে কুরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
নি এম/উত্তম

No comments:
Post a Comment