প্রত্যেকদিন বাড়িতে ভগবানের পুজো করার জন্য ফুল জোগাড় করা হয়। মালায়-ফুলে সাজানো হয় দেবতাকে। শুধু বাড়িতেই নয়, মন্দিরের বিগ্রহের গলায় দেওয়া হয় ফুলের মালা। কিন্তু কোথা এই এই ফুল অর্পণ করার রীতি এল জানেন?
বহু প্রাচীন যুগ থেকেই ফুল দিয়ে ভগবানকে পুজো করার রীতি রয়েছে। শাস্ত্রে এই ফুল দেওয়ার রীতিকে ‘পুষ্পাঞ্জলী’ বলা হয়। আবার সব দেবতাকে একই ফুল দিয়ে পুজো করা হয় না। একেক দেবতার জন্য এক একরকমের ফুল বরাদ্দ। ফুল আসলে সুন্দর ও পবিত্র। বলা হয়, ভগবানকে ফুল দিলে সম্পদে ভরে উঠবে সংসার। এছাড়া ফুলের সুন্দর গন্ধে ভরে থাকে দেবতার স্থান। তাতে পুজোর পরিবেশ তৈরি হয়। সেই সুগন্ধই দেবতার স্থানে অভ্যর্থনা জানায় ভক্তদের। পূজা শব্দটির মধ্যেই রয়েছে ফুল। ‘পু’ অর্থাৎ ফুল এবং ‘জা’ অর্থাৎ জপ। তবে কাঁটাযুক্ত ফুল কখনও দেওয়া হয় না ভগবানকে, বন্য ফুলও দেওয়ার রীতি নেই। শুধু ফুল দিলেই হয় না, মন থেকে ডাকলে তবেই সাড়া দেন ভগবান।
ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, ফুলকে তিনভাগে ভাগ করা হয়- ‘স্বত্ত্ব’, ‘রজ’ ও ‘তম’। স্বত্ত্বের ফুল হল ধুতরা, জুঁই, পলাশ ও সাদা গোলাপ। রজ-র মধ্যে আছে আপেল ফুল ও লাল গোপলাপল আর তম-র মধ্যে পড়ে কাশফুল, কেতকী, শিমূল ফুল। ‘স্বত্ত্ব’ ও ‘রজ’-র মধ্যে থাকা ফুল প্রত্যেকদিন দেওয়া হয় ভগবানকে। আর ‘তম’-র মধ্যে থাকা ফুল বিশেষ দিনে দেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment